মহাকাশ কি ? মহাকাশ কাকে বলে ?

Zamil Islam
0
মহাকাশ কাকে বলে
মহাকাশের ছবি

আমাদের মাথার ওপরের সেই অসীম রহস্যময় জগৎ। রাতের পরিষ্কার আকাশের দিকে যখন আমরা তাকাই, তখন অগণিত মিটমিটে তারা আর বিশাল অন্ধকার দেখে কার মনে প্রশ্ন না জাগে, এই অসীমতার শেষ কোথায়। মহাকাশ চিরকালই মানুষের কাছে এক অপার বিস্ময়। আদিম মানুষ আকাশ দেখে পথ চিনতো। আর আজকের মানুষ সেখানে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখছে। চলুন, সহজ কথায় এই রহস্যময় মহাকাশকে একটু কাছ থেকে চেনার চেষ্টা করি।

মহাকাশ কি?

খুব সহজভাবে বললে, আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল যেখানে শেষ হয়েছে, সেখান থেকেই মহাকাশের শুরু। এটা এমন এক জায়গা যেখানে শ্বাস নেওয়ার মতো বাতাস নেই। কোনো শব্দ নেই। আর নেই পৃথিবীর মতো সেই চেনা মাধ্যাকর্ষণ টান। এই বিশাল শূন্যতার প্রতি পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা অজানা রহস্য।

নক্ষত্র বা তারা: যেমন আমাদের সূর্য।
গ্রহ ও উপগ্রহ: আমাদের পৃথিবী আর তার সঙ্গী চাঁদ।
ধূমকেতু ও উল্কা: মহাকাশের যাযাবর পথিক।
গ্যালাক্সি: কোটি কোটি তারার এক একটি বিশাল পরিবার।

আচ্ছা কখনো কি আপনার মনে এই প্রশ্নটি জাগে নি যে, কি দিয়ে তৈরি এই মহাকাশ?

মহাকাশ মানেই কিন্তু শুধু ফাঁকা জায়গা নয়। মেঘমুক্ত রাতের আকাশে খালি চোখে আমরা যা দেখি, তার বাইরেও সেখানে লুকিয়ে আছে অনেক কিছু। যেমন-

গ্যালাক্সি: মহাকাশে অসংখ্য গ্যালাক্সি বা ছায়াপথ আছে। আমরা যে গ্যালাক্সিতে থাকি, তার নাম আকাশগঙ্গা (Milky Way)।
নীহারিকা বা নেবুলা: এগুলো আসলে গ্যাস আর ধূলিকণার বিশাল মেঘ। মজার ব্যাপার হলো, এই মেঘ থেকেই জন্ম নেয় নতুন নতুন তারা।
ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি: মহাকাশের সবচেয়ে রহস্যময় অংশ। এগুলো দেখা যায় না, কিন্তু বিজ্ঞানীদের মতে মহাবিশ্বের সিংহভাগ জুড়েই এদের রাজত্ব।

তাহলে এখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, মহাবিশ্বের শুরুটা তাহলে কিভাবে হয়েছিলো?

বিজ্ঞানীদের ধারণা, আজ থেকে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে এক বিশাল বিস্ফোরণের মাধ্যমে সবকিছুর শুরু হয়েছিলো। একে বলা হয় 'বিগ ব্যাং'। সেই এক বিন্দু থেকে শুরু হওয়া বিস্ফোরণেই জন্ম নেয় স্থান, সময় আর আজকের এই সুবিশাল মহাবিশ্ব। সেই থেকে মহাকাশ আজও চারদিকে বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত।

মহাকাশের অদ্ভুত সব নিয়ম-

পৃথিবীর নিয়মের সাথে মহাকাশের নিয়ম একদমই মেলে না।
ভয়ঙ্কর নীরবতা: মহাকাশে বাতাস নেই। তাই আপনি যদি সেখানে বছরের পর বছর ধরে চিৎকার করেন, আপনার সেই চিৎকার কেউ শুনবে না। শব্দ চলাচলের কোনো মাধ্যমই সেখানে নেই।
তাপমাত্রার খেলা: ছায়ায় থাকলে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, আবার সূর্যের আলোতে থাকলে প্রচণ্ড গরম।
ভরহীন অনুভূতি: মহাকাশে মাধ্যাকর্ষণ খুব কম হওয়ায় সেখানে সবকিছুই ভেসে বেড়ায়।
মানুষ যখন মহাকাশ জয় করতে বেরোলো, তখন তারা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ থেকে বের হওয়া মাত্রই ভাসতে শুরু করে।

মানুষ বরাবরই অজানাকে জানতে পছন্দ করে। সেই কৌতূহল থেকেই আমরা তৈরি করেছি শক্তিশালী টেলিস্কোপ। পাঠিয়েছি স্যাটেলাইট আর মহাকাশযান। ১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রং যখন চাঁদে প্রথম পা রাখলেন, তখন থেকেই মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়। এখন তো মানুষ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বছরের পর বছর থেকে গবেষণা চালাচ্ছে।

মহাকাশ নিয়ে কিছু চমকপ্রদ রহস্য-

এখনো এমন অনেক প্রশ্ন আছে যার উত্তর আমাদের কাছে নেই।
ব্ল্যাক হোল: এমন এক জায়গা যার টান থেকে খোদ আলোও পালাতে পারে না। এর ভেতরে আসলে কী আছে?
ভিনগ্রহের প্রাণী: এই অসীম মহাবিশ্বে আমরা কি একা? অন্য কোনো গ্রহে কি প্রাণের অস্তিত্ব আছে?
ডার্ক ম্যাটার: যা দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, তা আসলে কী দিয়ে তৈরি?

কিছু ভুল ধারণা যা আমরা বিশ্বাস করি-

আমরা অনেকেই ভাবি মহাকাশে একেবারেই মাধ্যাকর্ষণ নেই। আসলে তা নয়, মাধ্যাকর্ষণ সবখানেই আছে, তবে তার প্রভাব পৃথিবীর মতো নয়। আবার অনেকে ভাবেন মহাকাশ মানেই একদম শূন্য। আসলে সেখানেও খুব পাতলা গ্যাস আর ধূলিকণা ঘুরে বেড়ায়।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে যেতে পারে?

এক সময় মহাকাশে যাওয়া ছিলো কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্প। কিন্তু এখন মঙ্গলে বসতি গড়ার পরিকল্পনা চলছে। হয়তো আগামী কয়েক দশকের মধ্যে সাধারণ মানুষও পর্যটক হিসেবে মহাকাশ ঘুরে আসতে পারবে। নতুন কোনো শক্তির উৎস বা ভিনগ্রহে প্রাণের সন্ধান পাওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

মহাকাশ শুধু বিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যতের ঠিকানাও হতে পারে। এই বিশালতার সামনে আমরা হয়তো খুবই ক্ষুদ্র। কিন্তু আমাদের কৌতূহল আর জানার ইচ্ছা অসীম। মহাকাশের প্রতিটি ধূলিকণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শেখার আর জানার এখনো অনেক কিছুই বাকি আছে।

তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!