চাঁদ কিভাবে তৈরি হয়েছে? চাঁদ সৃষ্টি হওয়ার পেছনের রহস্য

Zamil Islam
0
ziodop.com
ziodop.com

চাঁদ কিভাবে তৈরি হয়েছে? এর পেছনের বিজ্ঞান কি?

আচ্ছা, আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি, চাঁদ কিভাবে তৈরি হয়েছে?

তাহলে আপনি কি এর উত্তরটা দিতে পারবেন?

হয়তো অনেকেই পারবেন। আবার হয়তো অনেকেই পারবেন না।

মানুষ হাজার বছর ধরে তাদের মাথার উপরের চিরচেনা আকাশের দিকে তাকিয়ে চাঁদকে দেখেছে। কিন্তু এই সুন্দর, রহস্যময় উপগ্রহটি আসলে কীভাবে তৈরি হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন অনেক গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো “জায়ান্ট ইমপ্যাক্ট হাইপোথিসিস” বা বিশাল সংঘর্ষ তত্ত্ব।

চলুন আজ আমরা পুরো বিষয়টি ধাপে ধাপে বোঝার চেষ্টা করি।

হাইপোথিসিস

চাঁদের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিভিন্ন ধারণা ছিলো। আগে কেউ ভাবতেন চাঁদ পৃথিবীর সঙ্গে একসঙ্গে তৈরি হয়েছে। আবার কেউ মনে করতেন এটি অন্য কোথাও তৈরি হয়ে পরে পৃথিবীর মহাকর্ষে আটকা পড়েছে।

কিন্তু এসব ধারণা সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি। তাই বিজ্ঞানীরা নতুন একটি তত্ত্ব প্রস্তাব করেন।
যা এখনকার সময়ে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বগুলোর একটি। চলুন, এখন আমরা জানবো কি সেই তত্ত্ব।

থিয়া

এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবী যখন সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়নি। তখন সৌরজগতে অনেক ছোট-বড় গ্রহ ও পাথুরে বস্তু ঘুরে বেড়াচ্ছিলো।
এই সময় পৃথিবীর সঙ্গে একটি মঙ্গল গ্রহের মতো আকারের বস্তু ধাক্কা খায়, যার নাম দেওয়া হয়েছে থিয়া (Theia)।
এই সংঘর্ষ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। এতটাই শক্তিশালী ছিলো যে-
পৃথিবীর একটি বড় অংশ গলে যায়
থিয়া প্রায় সম্পূর্ণ ভেঙে যায়
অসংখ্য গলিত পাথর ও ধাতু মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে
ধ্বংসাবশেষের কক্ষপথে বিচরণ
সংঘর্ষের পর যে ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছি্লো, তা পুরোপুরি মহাকাশে হারিয়ে যায়নি। বরং পৃথিবীর মহাকর্ষের কারণে সেগুলো পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকে।

এই অবস্থাকে বলা যায়,পৃথিবীর চারপাশে ধ্বংসাবশেষের একটি বলয় (ring) তৈরি হওয়া।
এই ধ্বংসাবশেষ ছিলো-

১.গলিত পাথর
২.ধাতব কণা
৩.ধূলিকণা
এগুলো ধীরে ধীরে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে থাকে এবং জোট বাঁধতে শুরু করে।
চাঁদের একীভূত হওয়া-

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই ধ্বংসাবশেষগুলো একত্রিত হয়ে একটি বড় পিণ্ড তৈরি করে। 
যা পরে চাঁদে পরিণত হয়।

এই প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে ঘটে-

১.ছোট কণার সংঘর্ষ

ছোট ছোট পাথর একে অপরের সঙ্গে লেগে বড় হতে থাকে।

২.গরম ও গলিত অবস্থা

সংঘর্ষের কারণে তাপ তৈরি হয়, ফলে চাঁদের প্রাথমিক অবস্থায় এটি ছিলো গলিত।

৩.ধীরে ধীরে ঠান্ডা হওয়া

সময় পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদের বাইরের অংশ শক্ত হয়ে যায়।
এইভাবে, কয়েক মিলিয়ন বছরের মধ্যে চাঁদ একটি স্থিতিশীল উপগ্রহে পরিণত হয়।

কেন বিজ্ঞানীরা এই তত্ত্ব বিশ্বাস করেন?

এই তত্ত্ব শুধু গল্প নয়-এটির পেছনে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।
 নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ দেওয়া হলো:

পাথরের গঠন মিল

চাঁদের পাথর ও পৃথিবীর পাথরের রাসায়নিক গঠন প্রায় একই।
এটি প্রমাণ করে যে তারা একই উৎস থেকে এসেছে।
লৌহের (Iron) পরিমাণ কম
চাঁদের কেন্দ্রে লৌহের পরিমাণ পৃথিবীর তুলনায় অনেক কম।
এটি বোঝায় যে চাঁদ মূলত পৃথিবীর বাইরের অংশ থেকে তৈরি হয়েছে।
ঘূর্ণনের বৈশিষ্ট্য
পৃথিবী ও চাঁদের ঘূর্ণন ও কক্ষপথের বৈশিষ্ট্য এই সংঘর্ষ তত্ত্বের সঙ্গে মিলে যায়।

অ্যাপোলো মিশনের নমুনা

মানুষ যখন চাঁদে গিয়েছিলো, তখন সেখান থেকে আনা নমুনা বিশ্লেষণ করে এই তত্ত্ব আরও শক্তিশালী হয়েছে।
অন্য তত্ত্বগুলো কেন গ্রহণযোগ্য নয়?
আগে আরও কিছু তত্ত্ব ছিলো, যেমন-
ক্যাপচার থিওরি
চাঁদ অন্য কোথাও তৈরি হয়ে পরে পৃথিবীর মহাকর্ষে আটকা পড়েছে।

সমস্যা: রাসায়নিক গঠন মেলে না
কো-ফরমেশন থিওরি
পৃথিবী ও চাঁদ একসঙ্গে তৈরি হয়েছে

সমস্যা: ঘনত্ব ও গঠন ব্যাখ্যা করতে পারে না
ফিশন থিওরি
পৃথিবীর একটি অংশ ছিঁড়ে গিয়ে চাঁদ হয়েছে

সমস্যা: যথেষ্ট শক্তির ব্যাখ্যা নেই
এই কারণে “থিয়া সংঘর্ষ তত্ত্ব” সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

চাঁদের জন্ম কোনো সাধারণ ঘটনা ছিলো, না-এটি ছিল এক বিশাল মহাজাগতিক দুর্ঘটনার ফল।
সংক্ষেপে বলা যায়-
পৃথিবীর সঙ্গে থিয়া নামের একটি গ্রহ ধাক্কা খায়।
সংঘর্ষে প্রচুর ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়।
সেই ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকে।
ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে চাঁদ তৈরি হয়।
আজকের চাঁদ সেই প্রাচীন সংঘর্ষের একটি নিদর্শন।
আমরা যখন রাতের আকাশে চাঁদের দিকে তাকাই, তখন আসলে আমরা দেখছি প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন বছর আগের এক বিশাল ঘটনার স্মৃতি।

শেষ কথা:

চাঁদ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়—এটি আমাদের সৌরজগতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের নিজের গ্রহের জন্মের গল্পও বলে।

তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

আরো পড়ুনঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!