![]() |
| মহাবিশ্ব প্রসার |
মহাবিশ্ব কত বড়?
মহাবিশ্বের আকার কত বড়-এই প্রশ্নটি মানবজাতির সবচেয়ে পুরোনো কৌতূহলগুলোর একটি।
রাতের আকাশে অসংখ্য তারা দেখে আমরা ভাবি, এর শেষ কোথায়? বিজ্ঞান আজ অনেক দূর এগিয়েছে, কিন্তু এখনো মহাবিশ্বের সম্পূর্ণ বিস্তার আমরা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।
পৃথিবীর প্রেক্ষাপট থেকে মহাবিশ্ব
আমরা বাস করি পৃথিবীতে, যা সূর্যের চারপাশে ঘোরে। সূর্য নিজেই একটি মাঝারি আকারের তারা।কিন্তু এখানেই শেষ নয়-
সূর্যসহ পুরো সৌরজগত একটি বিশাল গ্যালাক্সির অংশ।
সেই গ্যালাক্সির নাম Milky Way Galaxy।
পৃথিবী থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারি।
আমরা আসলে, এক বিশাল ব্যবস্থার ক্ষুদ্র অংশ।
এই গ্যালাক্সির কিছু বৈশিষ্ট্য-
ব্যাস প্রায় ১ লক্ষ আলোকবর্ষ।
আমাদের সূর্য এর এক প্রান্তে অবস্থান করছে।
এটি একটি সর্পিল (spiral) গ্যালাক্।
অর্থাৎ, শুধু আমাদের গ্যালাক্সিই এত বিশাল যে তা কল্পনা করা কঠিন।
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে আছে প্রায় ১০০ থেকে ৪০০ বিলিয়ন তারা।এই গ্যালাক্সির কিছু বৈশিষ্ট্য-
ব্যাস প্রায় ১ লক্ষ আলোকবর্ষ।
আমাদের সূর্য এর এক প্রান্তে অবস্থান করছে।
এটি একটি সর্পিল (spiral) গ্যালাক্।
অর্থাৎ, শুধু আমাদের গ্যালাক্সিই এত বিশাল যে তা কল্পনা করা কঠিন।
দৃশ্যমান মহাবিশ্ব
আমরা যতদূর দেখতে পারি, সেটিকে বলা হয় Observable Universe।বিজ্ঞানীদের মতে-
এর ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।
এতে আছে প্রায় ২ ট্রিলিয়নেরও বেশি গ্যালাক্সি।
এর মানে, আমরা যা দেখতে পারি, সেটিই পুরো মহাবিশ্ব নয়।
এর ব্যাস প্রায় ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।
এতে আছে প্রায় ২ ট্রিলিয়নেরও বেশি গ্যালাক্সি।
এর মানে, আমরা যা দেখতে পারি, সেটিই পুরো মহাবিশ্ব নয়।
এর বাইরে আরও,অনেক কিছু থাকতে পারে।
গ্যালাক্সি ক্লাস্টার-
কয়েকশ বা হাজার গ্যালাক্সির সমষ্টি।
সুপারক্লাস্টার-
একাধিক ক্লাস্টার মিলে তৈরি।
আমাদের গ্যালাক্সি আছে Laniakea Supercluster-এ
এগুলো মহাবিশ্বের বিশাল কাঠামো তৈরি করে।
এই জালে থাকে-
ফিলামেন্ট (সূক্ষ্ম লাইন)।
শূন্যস্থান (void)।
এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় স্কেলের গঠন।
গ্যালাক্সি ক্লাস্টার এবং সুপারক্লাস্টার
গ্যালাক্সিগুলো একা একা থাকে না। তারা দলবদ্ধভাবে থাকে।গ্যালাক্সি ক্লাস্টার-
কয়েকশ বা হাজার গ্যালাক্সির সমষ্টি।
সুপারক্লাস্টার-
একাধিক ক্লাস্টার মিলে তৈরি।
আমাদের গ্যালাক্সি আছে Laniakea Supercluster-এ
এগুলো মহাবিশ্বের বিশাল কাঠামো তৈরি করে।
মহাজাগতিক জাল
মহাবিশ্বে গ্যালাক্সিগুলো এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে নেই। তারা এক ধরনের জালের মতো বিন্যাস তৈরি করে, যাকে বলা হয় Cosmic Web।এই জালে থাকে-
ফিলামেন্ট (সূক্ষ্ম লাইন)।
শূন্যস্থান (void)।
এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় স্কেলের গঠন।
অসীম না সসীম
মহাবিশ্ব অসীম না সসীম-এটি এখনো একটি বড় প্রশ্ন।দুটি সম্ভাবনা আছে-
সসীম কিন্তু সীমাহীন – যেমন একটি গোলকের পৃষ্ঠ।
সম্পূর্ণ অসীম – যার কোনো শেষ নেই।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না।
অন্ধকার বস্তু ও অন্ধকার শক্তি
মহাবিশ্বের বেশিরভাগ অংশই আমরা দেখতে পাই না।Dark Matter: মহাবিশ্বের প্রায় ২৭%
Dark Energy: প্রায় ৬৮%
এই দুইটি মহাবিশ্বের বিস্তার এবং গঠন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরিমাপের এককসমূহ
মহাবিশ্ব এত বড় যে সাধারণ কিলোমিটার ব্যবহার করা যায় না।আলোকবর্ষ (Light Year)-
আলো এক বছরে যত দূর যায়
পারসেক (Parsec)-
জ্যোতির্বিজ্ঞানে ব্যবহৃত আরেকটি একক।
এই এককগুলো আমাদের মহাজাগতিক দূরত্ব বুঝতে সাহায্য করে।
মহাবিশ্বের শেষ কোথায়
আমরা এখনো মহাবিশ্বের "শেষ" খুঁজে পাইনি।সম্ভাব্য ধারণা:
মহাবিশ্ব ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে।
এর কোনো প্রান্ত নাও থাকতে পারে।
অথবা আমরা এখনো সেই প্রান্তে পৌঁছাতে পারিনি।
বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপ এবং গবেষণার মাধ্যমে এই রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছেন।
মহাবিশ্বের আকার এত বিশাল যে,তা পুরোপুরি কল্পনা করা আমাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
পৃথিবী থেকে শুরু করে গ্যালাক্সি, ক্লাস্টার, সুপারক্লাস্টার-সব মিলিয়ে আমরা এক অসীম বিস্তারের অংশ। যতই আমরা জেনেছি, ততই বুঝতে পেরেছি-মহাবিশ্ব আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক বড়, রহস্যময় এবং বিস্ময়কর।
তথ্য সূত্রঃ বিজ্ঞান চিন্তা
আরো পড়ুনঃ

