মহাকাশ অভিযান কি? মহাকাশ অভিযান কাকে বলে?

Zamil Islam
0
মহাকাশ অভিযান
মহাকাশ অভিযান

মহাকাশ অভিযান কি? মহাকাশ অভিযান কাকে বলে?

মহাকাশ সবসময়ই মানুষের কাছে এক পরম বিস্ময়। রাতের আকাশে মিটমিট করা তারার মেলা দেখে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে-ওখানে কী আছে? সেই কৌতূহল থেকেই জন্ম নিয়েছে মহাকাশ অভিযান। আজ আমরা জানব মহাকাশ অভিযান আসলে কি এবং কেন এটি মানবসভ্যতার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ।

মহাকাশ অভিযানের মূল ধারণা ও ইতিহাস-

সহজ কথায়, পৃথিবী ছাড়িয়ে মহাকাশের রহস্য উন্মোচন করার জন্য যে যাত্রা বা প্রচেষ্টা চালানো হয়, তাকেই মহাকাশ অভিযান (Space Exploration) বলে। এটি কেবল আকাশ দেখা নয়, বরং সশরীরে বা যন্ত্রের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের বাইরে গিয়ে গবেষণা করা।

ইতিহাসের এক ঝলক-

শুরুটা যেভাবে ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথমবারের মতো কৃত্রিম উপগ্রহ। 'স্পুটনিক ১' মহাকাশে পাঠিয়ে ইতিহাস রচনা করে। প্রথম মানুষ ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিন প্রথম মানুষ হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।
চাঁদে বিজয় ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের মাধ্যমে নীল আর্মস্ট্রং ও বাজ অলড্রিন চাঁদের বুকে প্রথম পা রাখেন।

মহাকাশ অভিযানের প্রকারভেদ

মহাকাশ অভিযানকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়-
১. রোবটিক মিশন: মানুষ না পাঠিয়ে দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট বা প্রোব পাঠানো। যেমন-মঙ্গলে পাঠানো 'পারসিভারেন্স' রোভার।
২. মানববাহী মিশন: যেখানে নভোচারীরা সরাসরি মহাকাশযানে করে অভিযানে যান। যেমন-আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (ISS) বা আগামী দিনের চন্দ্রাভিযান।
এছাড়াও বর্তমানে মহাকাশ পর্যটন (Space Tourism) নামক একটি নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষও (যথেষ্ট অর্থ থাকলে) মহাকাশ ঘুরে আসতে পারেন।

প্রযুক্তির ভূমিকা ও রকেট সায়েন্স

মহাকাশে যাওয়া মোটেও সহজ কাজ নয়। পৃথিবীর শক্তিশালী মাধ্যাকর্ষণ বল কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন প্রচণ্ড গতি এবং শক্তি। এখানেই আসে রকেট সায়েন্স।রকেট মূলত নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র (প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে) ব্যবহার করে চলে।
আধুনিক রকেটগুলোতে তরল বা কঠিন জ্বালানি পুড়িয়ে বিপুল পরিমাণ গ্যাস নিচের দিকে বের করে দেওয়া হয়, যা রকেটকে উপরের দিকে ঠেলে দেয়। বর্তমানে স্পেসএক্স (SpaceX)-এর মতো কোম্পানিগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরি করে মহাকাশ গবেষণার খরচ অনেক কমিয়ে এনেছে।

কেন আমরা মহাকাশ অভিযান করি?

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, পৃথিবীতে এত সমস্যা থাকতে মহাকাশে টাকা খরচ করার কী দরকার? এর পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে।
অজানাকে জানা:মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, তা খুঁজে বের করা।
প্রযুক্তির উন্নয়ন: মহাকাশ গবেষণার ফলে প্রাপ্ত প্রযুক্তি (যেমন: জিপিএস, স্যাটেলাইট টিভি, উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম) আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করে দিয়েছে।
সম্পদের সন্ধান: গ্রহাণু বা চাঁদে প্রচুর মূল্যবান খনিজ রয়েছে, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি বা কাঁচামালের উৎস হতে পারে।
গ্রহ রক্ষা: কোনো বিশাল গ্রহাণু যদি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে, তবে তাকে ঠেকানোর প্রযুক্তি মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমেই সম্ভব।

বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ মিশনসমূহ

বর্তমানে মহাকাশ গবেষণা এক সোনালী অধ্যায় পার করছে। উল্লেখযোগ্য কিছু মিশন হলো-
আর্টেমিস মিশন (Artemis): নাসার এই মিশনের লক্ষ্য আবারও মানুষকে চাঁদে পাঠানো এবং সেখানে স্থায়ী বসতি স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া।
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ: মহাবিশ্বের একদম শুরুর দিকের ছবি এবং দূরবর্তী গ্রহের বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করছে এটি।
গগনযান: ভারতের প্রথম নিজস্ব মানববাহী মহাকাশ অভিযান।
চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা।
মহাকাশ অভিযান যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি বিপজ্জনক।
বিকিরণ: মহাকাশের ক্ষতিকর মহাজাগতিক রশ্মি মানবদেহের জন্য মারাত্মক।
শূন্য মাধ্যাকর্ষণ: দীর্ঘদিন মহাকাশে থাকলে নভোচারীদের হাড় ও পেশি দুর্বল হয়ে যায়।
যান্ত্রিক ত্রুটি: কোটি কোটি টাকার মিশনে সামান্য একটি যান্ত্রিক ত্রুটি পুরো অভিযানকে ব্যর্থ করে দিতে পারে।
মহাকাশ বর্জ্য: পুরনো স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ নতুন অভিযানের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মহাকাশ অভিযান কেবল বিজ্ঞানের জয়যাত্রা নয়, এটি মানুষের হার না মানা মানসিকতার পরিচয়। আমরা আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তা কয়েক দশক আগে কল্পনাও করা যেত না। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে মানুষ মঙ্গল গ্রহে শহর গড়ে তুলবে কিংবা অন্য কোনো গ্যালাক্সিতে পাড়ি জমাবে। অজানাকে জানার এই তৃষ্ণাই আমাদের একদিন নিয়ে যাবে তারার দেশে।


তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

আরো পড়ুনঃ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!