নব জাগরণ
জামিল ইসলাম
জাগো রে নিস্তব্ধ নিশি,
ক্রোধে ফেটেছে আকাশ—ধ্বনিত হয়েছে তার বজ্রহাসি।
জবুথবু হয়ে ভূমির বুকে ঘুমিয়ে আছে জীর্ণশীর্ণ;
এক মহাকাল—যে করেছিলো কালো আঁধারকে বিদীর্ণ—
দাবানলের শিখায় স্ফুলিঙ্গ করেছিলো উদগীরণ,
বুকে তার জমে আছে তীব্র ক্ষোভ– রাগে করছে স্পন্দন।
ওরে ক্লান্ত প্রাণ!
নিয়ে আয় মহাকালের পুরাণ।
পড়ে দেখ একবার—
দূর্বলের পরাজয় কি হয়েছে বারবার?
ওরে দীন—ভিখারি!
তুই করবি কি শুধুই আহাজারি?
তোর রক্তে-মাংসে গড়া দেহ
ওরা কি শুধুই ভক্ষিবে? করবে শুধুই লেহ?
তোর মনে জ্বলুক আজ ক্ষোভের আগুন,
বুকে তোর উঠুক তুফান, ঝড় বাড়ুক দ্বিগুণ।
তুই প্রলয়ের বাঁশি বাজা,
আসবে আবার সুদিন, অতীতের জীর্ণ হবে তাজা।
রুদ্ধ দুয়ার ভেঙে বেরো আজি,
ঝঞ্ঝার মতো ধেয়ে চল—বিজয়ের পথ রয়েছে সাজি।
আকাশের বুকে লেখা তোর নাম,
ভীরুতার অবসান ঘটিয়ে আজ, কাঁপিয়ে দে ধরাধাম।
আসুক যতোই আঁধার–আসুক যতো ঝড়,
চেতনাতেও আগুন জ্বালা তোর, বিধাতাই দেবে বর।
শিকল ভেঙে সব করে দে খানখান, সব হোক চুরমার,
নতুন দিনের সোনালী আলো ফুটুক–সব হতাশা হোক ছারখার।
আর আর্তনাদ নয়, আর নয় ভীতি,
জাগো রে মানব! জাগো রে মাটি! জাগাও সম্প্রীতি।
শক্ত হাতে বজ্রের মতো মুষ্টি ধরো,
ওদের গোষ্ঠী উদ্ধার করো।
ওদের ধুলোয় মিশিয়ে দেবো! ক্ষোভ করছে আস্ফালন;
নতুন সূর্য উঠুক! এ পৃথিবীর কোণে কোণে হোক নব জাগরণ।
রচনাকাল: ১৮ই মাঘ ১৪২৮।
নব জাগরণ কবিতার ব্যবহার বিধিমালাঃ
নব জাগরণ কবিতাটি জামিল ইসলামের একটি মৌলিক রচনা। এই কবিতাটি চাইলে আপনারা আপনাদের যেকোনো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বা ওয়েবসাইটে পোস্ট করতে পারবেন। তবে আপনারা এই কবিতাটি সম্পূর্ণ প্রকাশ করতে পারবেন না। আপনারা যেকোনো প্ল্যাটফর্মে এই কবিতার প্রথম তিন স্তবক পোস্ট করতে পারবেন। তবে আপনারা এই কবিতাটি অন্য কোথাও পোস্ট করলে অবশ্যই লেখক জামিল ইসলামের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ziodop.com থেকে এই কবিতার লিঙ্ক দিতে হবে অথবা সোর্স হিসেবে ziodop.com এর নাম উল্লেখ করতে হবে। আর অবশ্যই লেখক জামিল ইসলামের নাম উল্লেখ করতে হবে এবং কবিতার শেষে উল্লেখ করতে হবে যে, "এই কবিতাটি সংক্ষেপিত"। তবে লেখকের অনুমতি ছাড়া এই কবিতার যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যবহার সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ। যদি কোনো ব্যাক্তি এর কোনো রকম ব্যতিক্রম করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে যাবতীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

