হারিয়ে যাওয়া রংধনু
লেখকঃ জামিল ইসলাম
পর্বঃ ০১
![]() |
| ziodop.com |
রাত হয়ে গেছে।
কিন্তু চারপাশে এখনো পুরোপুরি অন্ধকার নামে নি। আকাশে কিছু কিছু তারা দেখা যাচ্ছে। শহরের আলোকিত রাস্তাঘাট এবং চারপাশ দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরছিলেন আনোয়ার হোসেন।
অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি সবসময় এই রাস্তাটি বেছে নেন। দীর্ঘদিন ধরে একই পথে যাতায়াত করায় রাস্তাটি তার খুব চেনা। তবে আজকে তার মনটা একটু খারাপ ছিলো। অফিসে আজকে খুব চাপের মধ্যে দিয়ে দিনটি গেছে।
তাই একঘেঁয়েমি যেনো কাটাতেই পারছিলেন না।
বাড়িতে পৌঁছে দরজা খোলার আগেই শুনতে পেলেন মেয়ের কণ্ঠস্বর।
“আব্বু, তুমি আসছো?” বাবার পায়ের শব্দ শুনে মেয়ে রূপা দরজা খুলে ছুটে এসে আনোয়ারের গলা জড়িয়ে ধরলো।
এক নিমেষে সব ক্লান্তি ভুলে গেলেন তিনি। রূপার হাসিমুখ দেখে আনোয়ারের মন ভালো হয়ে গেলো। আনোয়ারে মেয়ে রপা। ছোট্ট মেয়েটির বয়স পাঁচ বছর। খুবই চঞ্চল। আর মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে।
আব্বু, তুমি কি জানো, আজকে আমি স্কুলে নতুন একটা ছবি এঁকেছি। তোমাকে দেখাবো?
রূপা আনন্দে উচ্ছল হয়ে আনোয়ার কে বললো।
অবশ্যই, মা। তুমি তোমার ছবিটা নিয়ে এসো। আমি দেখতে চাই। আনোয়ার বললেন।
রূপা দৌড়ে ঘরের ভেতরে গেলো। হাতে একটি কাগজ নিয়ে ফিরে এলো। বিভিন্ন রঙের কাপড়ের ডিজাইন করা রঙিন একটি কাগজ। কাগজে একটি ছবি আঁকা। রংধনুর ছবি।
“এই তো, খুব সুন্দর হয়েছে মা। তুমি তো খুব ভালো আর্টিস্ট!” আনোয়ার তার মেয়ের প্রশংসা করলো।
রূপা মুচকি হেসে বাবা কে বললো, “তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ, আব্বু।”
বাপ-মেয়ের কথা শুনে আনোয়ারের স্ত্রী জুবাইদা এগিয়ে এলেন। সে এতোক্ষণ কাজে ব্যস্ত ছিলো বলে আনোয়ার কে দেখতে পায় নি। আনোয়ার কে দেখেই সে বললো-
ও, তুমি এসে গেছো? অফিস থেকে কখন আসলে?
এইমাত্রই এলাম। আনোয়ার স্ত্রীর প্রশ্নের জবাব দেয়।
আচ্ছা, তুমি জামাকাপড় পাল্টে, হাত-মুখ ধুয়ে এসো। আমি তোমার খাবার দিচ্ছি। এই বলে সে মেয়ে কে কোলে তুলে নিয়ে ভেতরে চলে যায়।
আনোয়ার উঠে রুমে চলে যায়।
রাতে খাওয়ার পর আনোয়ার বইয়ের তাক থেকে একটি পুরোনো বই নামালেন। বইটির নাম "রূপকথার গল্প”। ছোটবেলা থেকেই তিনি এই বইটি পড়তে ভালোবাসতেন। বইটি পড়ার জন্য পৃষ্ঠা উল্টাচ্ছিলেন। পাতা উল্টাতে উল্টাতে হঠাৎ বইয়ের ভেতর থেকে একটি পাতা খসে নিচে পড়লো।
আনোয়ার পাতাটি তুললেন। তিনি দেখলেন পাতার মধ্যেই একটি চিঠি। চিঠিটি দেখে মনে হচ্ছে অনেক পুরোনো। চিঠির গায়ে ময়লা লেগে গেছে।

