হারিয়ে যাওয়া রংধনু
লেখকঃ জামিল ইসলাম
পর্বঃ ০২
![]() |
| ziodop.com |
তার শৈশবের বন্ধু ফারুকের চিঠি। ফারুক ছিলো আনোয়ারের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। অনেক বছর আগের কথা। তারা একসাথেই স্কুলে পড়তো। খেলতো। গল্প করতো। সুযোগ পেলেই নদীতে গিয়ে গোসল করতো।
ফারুকও আনোয়ারের মতো জীবিকার জন্য প্রথমে ঢাকা এসেছিলো। আনোয়ার ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের কাছেই একটা বাসা নেয়। আর ফারুক ফার্মগেটের কাছে। মাঝেমধ্যে এক বন্ধু আরেক বন্ধুর বাসায় যেতো। গল্পগুজব করতো। প্রায় প্রায়ই তাদের দেখা সাক্ষাত হতো। আনোয়ার তখনো বিয়ে করে নি।
একদিন আনোয়ার ফারুকের বাসায় যায় দেখা করতে। কিন্তু বন্ধুর বাসায় গিয়ে হঠাৎই সে জানতে পারে ফারুক অন্য কোনো শহরে চলে গেছে।
কোনো খোঁজ-খবর না দিয়ে, কিছু না বলে বন্ধুর এরকম আচমকা চলে যাওয়াতে আনোয়ারের একটু খারাপই লাগে। সেই সাথে কষ্টও পায়। তখন থেকেই তাদের মাঝে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আনোয়ার গভীর মনোযোগ দিয়ে চিঠিটি পড়ে।চিঠিতে ফারুক লিখেছে-
“আনোয়ার, কেমন আছিস? আমি খুলনা চলে এসেছি। তোকে কিছু জানিয়ে আসতে পারলাম না। একরকম হুট করেই চলে আসতে হলো। তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস বন্ধু। নতুন শহরে এসে নতুন কিছু বন্ধু পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু তোকে খুব মিস করি। অনেক দিন হলো তোর সাথে দেখা হয় নি। তুই কেমন আছিস? যদি আমার চিঠি হাতে পাস, আমাকে লিখিস। তোর বন্ধু, ফারুক।”
চিঠিটি পড়ে আনোয়ারের চোখের কোণে পানি চলে এলো। তিনি ভাবতে লাগলেন, কতদিন হয়ে গেলো ফারুকের সাথে দেখা হয়নি। কথা হয়নি।
আনোয়ার তাই ঠিক করলেন, তিনি ফারুকের কাছে যাবেন। গিয়ে ওর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করবেন। পুরোনো বন্ধু বলে কথা।
পরেরদিন সকালে আনোয়ার ফারুকের ঠিকানায় চিঠি পাঠালেন।
কিছুদিন পর ফারুকের উত্তর এলো।
সে লিখেছে, “আনোয়ার, তোর চিঠি পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। অনেক দিন হয়ে গেছে আমাদের দেখা হয়নি। আমি এখন অন্য শহরে থাকি। তুই যদি কখনো এই শহরে আসিস, আমাকে জানাস। আমি তোকে দেখার অপেক্ষায় থাকবো। তোর বন্ধু, ফারুক।”
আনোয়ার ফারুকের চিঠি পেয়ে খুব খুশি হলেন। তিনি ঠিক করলেন, তিনি ছুটি নিয়ে ফারুকের শহরে যাবেন। অফিস থেকে দুই দিনের ছুটি নিয়ে আনোয়ার রওনা হলেন ফারুকের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে।

