শ্মশান ঘাট গল্প। পর্ব এক। জামিল ইসলামের গল্প

Zamil Islam
0

শ্মশান ঘাট

জামিল ইসলাম

পর্বঃ০১

ziodop.com
ziodop.com

শীতের রাত।

রাত প্রায় এগারোটার মতো বাজে।

ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা শেষ। রেজাল্ট দিতে এখনো বেশ দেরি। সারাদিন শুয়ে-বসে, ঘুরে-ফিরেও যেনো সময় আর কাটতে চায় না। একদম হাঁপিয়ে উঠেছি আমরা।

রাজু, সুমন, সোহান, টুটুল আর আমি। ইউনিভার্সিটির হলে আমরা পাঁচ বন্ধু মিলে গল্প করছিলাম। ভুতের গল্প। রাজু ওর এলাকার একটি পুরোনো শ্মশান ঘাটের গল্প বলছিলো। ডাকাতির অপরাধে কিভাবে দুইজন জলজ্যান্ত মানুষকে শ্মশান ঘাটে পুড়িয়ে মারা হয়, তার গল্পই শুনছিলাম ওর কাছে।

যে দুই ডাকাতকে পুড়িয়ে মারা হয়, তারা নাকি আপন দুই ভাই ছিলো। যে শ্মশানে তাদেরকে পুড়িয়ে মারা হয়, এখনো সেই শ্মশানের আশেপাশে লোকজন তাদেরকে মাঝে মাঝে নাকি দেখতে পায়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের রুপ ধরে আসে। কখনো বা জীবজন্তুর রুপ ধরেও আসে।

রাজু ওই ডাকাতদের কখনো দেখে নি। আর ও দেখবেই বা কিভাবে, ওর জন্মেরও নাকি অন্তত বিশ বছর আগে সেই ডাকাত দুইজনকে পুড়িয়ে মারা হয়। আর তাছাড়া ছোটবেলা থেকেই ও ঢাকাতে বড় হয়েছে। আর ঢাকাতেই ওর জন্ম। ওর মা-বাবা, ভাইবোন সবাই এখানেই থাকে। ঢাকাতে ওদের নিজস্ব বাড়ি আছে। তবে রাজুর দাদা-দাদী, কাকা-কাকীরা গ্রামের বাড়িতেই থাকে। আর এই গল্পটি রাজু ওর বাবা-মার মুখে শুনেছে।

রাজুর মুখে ডাকাত পুড়িয়ে মারার আর তাদের এখনো মাঝে মাঝে ওই শ্মশানের আশেপাশে আবির্ভাবের গল্পটা সুমন, সোহান, টুটুল আর আমার মনে এক আগ্রহের জন্ম দেয়। কৌতুহল বোধ করি আমরা।

আমাদের সারা শরীর জুড়েই কেমন যেনো একটা রোমাঞ্চ অনুভব করলাম।

আচ্ছা, আমাদের তো এখন ইউনিভার্সিটির পরীক্ষা শেষ। হাতে সময়ও আছে প্রচুর। চল না, আমরা তাহলে রাজুর গ্রামের বাড়ি থেকে ঘুরে আসি।-সুমন প্রস্তাবটি আমাদেরকে দেয়।

আমি বাকিদের মুখের দিকে তাকালাম। সুমনের প্রস্তাবের বিপরীতে ওদের কি প্রতিক্রিয়া হয়, তা বুঝার চেষ্টা করলাম। ওদের চোখেমুখে বেশ কৌতুহল বোঝা যাচ্ছে।

যাওয়া যেতে পারে। যদি রাজু আমাদেরকে নিয়ে যেতে রাজি হয়। আমি বললাম।

কিরে রাজু, আমাদেরকে তোর গ্রামের বাড়ি বেড়াতে নিয়ে যাবি না? এতে তোর গ্রামের বাড়িও ঘুরে আসা যাবে আর সেই সাথে ওই শ্মশানটিও দেখে আসা যাবে। কি বলিস রাজু? টুটুল রাজু কে জিজ্ঞাসা করে।

" হ্যাঁ, এটি তুই খুব ভালো বলেছিস টুটুল।"- টুটুলের কথায় তাল দেয় সোহান।

রাজু যদিও ওই শ্মশানটির ব্যাপারে অনেক বার তার মা-বাবার কাছে শুনেছে। কিন্তু শ্মশানটি এখন পর্যন্ত নিজের চোখে দেখে নি। তাই রাজু প্রথমে কি যেনো ভেবে আমাদের কথায় রাজি হয়ে যায়।

রাজুর গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁয়ের কোনো একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে। গ্রামের নাম ধর্মপুর। আমরা সবাই মিলে স্থির করলাম, রাজুর গ্রামের বাড়িতে অমাবস্যা তিথিতে যাবো। পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা তাই এক রাতে অমাবস্যা তিথিতে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে ট্রেনে করে রওনা দেই।

রাজুর গ্রামে যাওয়ার আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সেই শ্মশানটি দেখা। যেখানে ডাকাত জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। ডাকাতদের বাড়ি নাকি রাজুদের গ্রামের পাশের গ্রামেই। আর আমরা ঠাকুরগাঁওয়ের যে স্টেশনে নামবো, তার দুই স্টেশন আগে যে স্টেশন টা রয়েছে, বিলাসপুর। সেই স্টেশনেও নাকি এই ডাকাতেরা বেশ কয়েকবার ডাকাতি করেছিলো। কয়েকজন কে নাকি কুঁপিয়ে মেরেও ফেলেছিলো এখানে।

এইজন্য আমরা বাস ছেড়ে ট্রেনকেই বেছে নেই। উদ্দেশ্য সেই স্টেশনটাও দেখবো। আমরা ঢাকা থেকে সকাল এগারোটার দিকে রওনা দেই.....

দ্বিতীয় পর্ব

আরো পড়ুনঃ



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!