শ্মশান ঘাট
জামিল ইসলাম
পর্বঃ০২
![]() |
| ziodop.com |
রাজু ওর চাচাতো দুই ভাইকে আমাদেরকে স্টেশনে নিতে আসার জন্য আগেই বলে দিয়েছে।
সকাল প্রায় সাড়ে দশটার দিকে ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়লো।
ব্যস্ত ঢাকার কোলাহল ছাপিয়ে ট্রেন এখন গ্রামের ভেতর দিয়ে ছুটে চলেছে। দুইপাশে অসংখ্য গ্রাম। সবুজ ধানের ক্ষেত। ফসলের ক্ষেত, পুকুর, নদী পেরিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি। এমন মুহুর্তে মনে পড়ে গেলো কবি শামছুর রাহমানের সেই বিখ্যাত "ট্রেন" কবিতার কয়েকটি লাইন-
"ঝক ঝকা ঝক ট্রেন চলেছে
রাত দুপুরে অই,
ট্রেন চলেছে ট্রেন চলেছে
ট্রেনের বাড়ি কই?
একটু জিরোয় ফের ছুটে যায়
মাঠ পেরুলেই......."
"ঝক ঝকা ঝক ট্রেন চলেছে
রাত দুপুরে অই,
ট্রেন চলেছে ট্রেন চলেছে
ট্রেনের বাড়ি কই?
একটু জিরোয় ফের ছুটে যায়
মাঠ পেরুলেই......."
হাঁড়কাপানি শীতের তীব্রতায় কবিতার বাকি লাইনগুলো মনের ভেতরে ঘুমিয়ে পড়েছে যেনো। আর মনে করতে পারলাম না।
পৌষের শীত বিদায় নিয়ে মাঘের শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই অন্তরের ভেতরটাও কাপিয়ে দিচ্ছে যেনো। মনে হচ্ছে এবারের শীতটা বেশ ভালোই পড়বে।
ট্রেন দ্রুত গতিতে ছুটেই চলেছে।
ট্রেন দ্রুত গতিতে ছুটেই চলেছে।
থামার যেনো কোনো নাম গন্ধও নেই। ট্রেন দ্রুত গতিতে ছুটে চলার জন্য শীত যেনো আমাদের উপরে আরো জেঁকে বসেছে। ব্যাগ থেকে মোটা সোয়েটার বের করে গাঁয়ে দিলাম।
তবুও শীত লাগছে। চাঁদর বের করে গায়ে দিলাম। এখন শীত যেনো কিছুটা কম লাগছে।
দুপুর গড়িয়ে গেছে আরো অনেক আগেই।
দুপুর গড়িয়ে গেছে আরো অনেক আগেই।
বিকেল পেরিয়ে, সন্ধ্যা মাড়িয়ে সময় যখন রাত প্রায় আটটার কাছাকাছি, আমাদের ট্রেন তখন ঠাকুরগাঁওয়ের লাক্ষাদিয়া স্টেশনের আগের স্টেশন বিলাসপুর এসে পৌছালো। এমন সময়ে হাঁকডাক শুনতে পেলাম, "এই চা গরম চা গরম।। চা খাবেন নি চা?"
আমরা পাঁচ বন্ধু চা খেয়ে শরীরটা একটু গরম করে নিলাম।
চা ওয়ালা লোকটার দিকে নজর পড়তেই দেখলাম, একটা বেঁটেমোটা, ক্ষীণ স্বাস্থ্যওয়ালা একজন লোক। লোকটার চোখ দুটো কোটরে ঢুকে আছে যেনো। গোঁফটা একটু বড়। গায়ে তার একটি কালো চাদর। মুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট। দারিদ্রতার রোষানলের জন্যই হয়তো এই ছাপ। তাকে দেখে বড্ড মায়া হলো। লোকটার পাওনা বিল চুকিয়ে আরো দশ টাকা বখশিশ দিলাম।
ট্রেন আবার ছেড়ে দিলো।
রাত প্রায় নয়টার দিকে আমরা আমাদের গন্তব্য লাক্ষাদিয়া রেল স্টেশনে পৌঁছে গেলাম। বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখতে লাগলাম ডাকাতির সেই স্টেশন।
কে বলবে এমন একটা স্টেশনে এমন একটি করুণ ঘটনা ঘটেছে?
ব্যস্ত একটি স্টেশন। পুরো স্টেশন মানুষে গিজগিজ করছে।
রেল স্টেশনের চারপাশের লাইটের আলোয় দিনের মতো লাগছে। পুরো সরগরম। নির্জনতার লেশ মাত্রটুকুও যেনো নেই।
স্টেশনে পৌঁছেই আমরা রাজুর দুই চাচাতো ভাইকে দেখি।
রাজীব আর সজীব। আপন দুই ভাই। রাজীব বড় আর সজীব ছোট৷ রাজীব এবার দশম শ্রেণিতে আর সজীব অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। দুই ভাই-ই উন্নত স্বাস্থ্যের অধিকারী। বেশ শক্তপোক্ত, নাদুস-নুদুস চেহারা। কথাবার্তা বেশ মিষ্টি। স্টেশনের বাইরে এসে আমরা দুইটি রিকশা নিয়ে ওদের সাথে বাড়ি চলে গেলাম।
রাজীব আর সজীব। আপন দুই ভাই। রাজীব বড় আর সজীব ছোট৷ রাজীব এবার দশম শ্রেণিতে আর সজীব অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। দুই ভাই-ই উন্নত স্বাস্থ্যের অধিকারী। বেশ শক্তপোক্ত, নাদুস-নুদুস চেহারা। কথাবার্তা বেশ মিষ্টি। স্টেশনের বাইরে এসে আমরা দুইটি রিকশা নিয়ে ওদের সাথে বাড়ি চলে গেলাম।
রাজুদের বাড়িতে আমরা যখন পৌছালাম, তখন বেশ রাত হয়ে গেছে। চারপাশে তখন ভালো মতো কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না।
বাড়িতে পৌছেই আমরা হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম। দেখলাম আমরা যাওয়ার আগেই রাজুর চাচা বাড়িতে এলাহী আয়োজন করেছে। আমরা খাওয়া শেষ করে দ্রুত ঘুমাতে গেলাম। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে যখন শুয়েছি, ঘুম যে কখন দুই চোখে এসে গেছে, তা কেউই টের পায় নি।
পরের দিন সকালে সজিবের ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙলো। আমরা ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে করতে রাজুদের পুকুরের দিকে গেলাম।
রাজুদের গ্রামের বাড়িটি খুব সুন্দর। নীরব শান্ত পরিবেশ। বাড়ির পূর্ব পাশে সবুজ মাঠ। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শান্ত নদী, বৈচি। শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা এরকম একটি শান্ত-সুনিবিড় গ্রামই খুঁজছিলাম।
রাজুর দাদা-দাদী, চাচা-চাচী, আর চাচাতো ভাই-বোনেরা আমাদেরকে আপন করে কাছে টেনে নেয়। যেনো আমরা সবাই তাদের কত কাছের। কত আপন। আমরাও রাজুদের গ্রামে এসে খুবই খুশি। উচ্ছ্বসিত।
সন্ধ্যার পর আমরা খাবার খেয়ে রাজুর চাচাতো ভাই-বোনদের সাথে বিভিন্ন ধরনের গল্পগুজব করলাম। তারপর সেই শ্মশান নিয়েও কথা বললাম। সে ব্যাপারে আমরা ওদের কাছে জানতে চাইলাম অনেক কিছু।
ঠিক হয় আমরা পরেরদিন গ্রামে ঘুরতে বের হবো......

