নীহারিকা কি? নীহারিকা কাকে বলে

Zamil Islam
0

মহাবিশ্বের নক্ষত্রশালা: নীহারিকার আদ্যোপান্ত

মহাবিশ্বের অসীম শূন্যতায় তাকালে আমরা শুধু নক্ষত্র বা গ্রহ দেখি না, বরং এমন কিছু রহস্যময় এবং বর্ণিল কাঠামোর দেখা পাই যা আমাদের কল্পনাকেও হার মানায়। এই মোহনীয় কাঠামোগুলোকে বলা হয় 'নীহারিকা' বা ইংরেজি পরিভাষায় 'Nebula'। ল্যাটিন শব্দ 'Nebula' থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ হলো কুয়াশা বা মেঘ। মহাকাশ বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নীহারিকা হলো মহাজাগতিক ধূলিকণা, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম এবং অন্যান্য আয়নিত গ্যাসের এক বিশাল মেঘ। এগুলো কেবল মহাকাশের সৌন্দর্য বর্ধনকারী উপাদান নয়, বরং এগুলো হলো নক্ষত্রের সূতিকাগার। একটি নক্ষত্রের জন্ম থেকে শুরু করে তার মৃত্যু পরবর্তী অবশিষ্টাংশ পর্যন্ত—সবকিছুর সাথেই নীহারিকার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। টেলিস্কোপের নিচে নীহারিকাগুলোকে কখনও উজ্জ্বল প্রজাপতির মতো, কখনও ঘোড়ার মাথার মতো, আবার কখনও বা বিশাল স্তম্ভের মতো দেখায়। এই প্রবন্ধে আমরা নীহারিকার প্রতিটি ধরণ, তাদের গঠন প্রক্রিয়া এবং মহাবিশ্বের বিবর্তনে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।


orion nebula
ওরিয়ন নীহারিকা

নীহারিকা কী এবং এর গঠন উপাদান

নীহারিকা মূলত মহাকাশের অত্যন্ত পাতলা কিন্তু বিশাল বিস্তৃত অঞ্চল যেখানে গ্যাস ও ধূলিকণা পুঞ্জীভূত থাকে। যদি আমরা এর ঘনত্বের কথা ভাবি, তবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের তুলনায় এটি অবিশ্বাস্য রকম হালকা। তবে এদের বিশাল আকারের কারণে এদের ভর অনেক বেশি হয়। একটি সাধারণ নীহারিকা কয়েক আলোকবর্ষ থেকে শুরু করে কয়েকশো আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। এর প্রধান উপাদান হলো হাইড্রোজেন গ্যাস, যা মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রাচুর্যময় মৌল। হাইড্রোজেনের পাশাপাশি এতে থাকে হিলিয়াম এবং সামান্য পরিমাণে ভারী মৌল যেমন কার্বন, নাইট্রোজেন ও অক্সিজেনের ধূলিকণা। এই ধূলিকণাগুলো অত্যন্ত ক্ষুদ্র, অনেকটা ধোঁয়ার কণার মতো। যখন এই মেঘগুলো মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সংকুচিত হতে শুরু করে, তখনই সেখানে নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। নীহারিকাগুলো মূলত দুইভাবে দৃশ্যমান হয়—হয় তারা নিজেদের ভেতরের নক্ষত্রের আলোতে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, অথবা তারা পেছনের আলোকে আড়াল করে কালো ছায়ার মতো অবস্থান করে।

নক্ষত্রের জন্মস্থান

নীহারিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি নক্ষত্রের জন্মস্থান বা 'স্টেলার নার্সারি'। মহাবিশ্বের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকা গ্যাস যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে এক জায়গায় জড়ো হতে থাকে, তখন সেখানে ঘনত্বের সৃষ্টি হয়। এই ঘন অঞ্চলগুলো ধীরে ধীরে আরও বেশি গ্যাস ও ধূলিকণা টেনে নেয়। সময়ের সাথে সাথে এই কেন্দ্রের চাপ ও তাপমাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পায় যে সেখানে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয়। এভাবেই একটি নীহারিকার বুক চিরে জন্ম নেয় নতুন নক্ষত্র। উদাহরণস্বরূপ, বিখ্যাত 'ঈগল নেবুলা'-র 'পিলার্স অফ ক্রিয়েশন' অঞ্চলটি নক্ষত্র তৈরির একটি জীবন্ত কারখানা। এখানে বিশাল গ্যাসীয় স্তম্ভের ভেতরে শত শত নতুন নক্ষত্র দানা বাঁধছে। নক্ষত্র তৈরির এই প্রক্রিয়াটি লক্ষ লক্ষ বছর ধরে চলে। নীহারিকা না থাকলে মহাবিশ্ব নক্ষত্রহীন এক অন্ধকার স্থানে পরিণত হতো। তাই নীহারিকাকে মহাবিশ্বের প্রাণশক্তির উৎস বলা যেতে পারে।

এমিশন নীহারিকা

এমিশন নীহারিকা হলো এমন এক ধরণের গ্যাসীয় মেঘ যা নিজেই আলো বিকিরণ করে। এর নাম থেকেই বোঝা যায় এটি আলো 'এমিট' বা নির্গত করে। সাধারণত এই নীহারিকাগুলোর কেন্দ্রে বা আশেপাশে অত্যন্ত উত্তপ্ত ও তরুণ নক্ষত্র থাকে। এই নক্ষত্রগুলো থেকে নির্গত উচ্চশক্তির অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolet Radiation) চারপাশের হাইড্রোজেন গ্যাসকে আয়নিত করে ফেলে। যখন এই আয়নিত ইলেকট্রনগুলো পুনরায় প্রোটনের সাথে যুক্ত হয়, তখন তারা শক্তি ছেড়ে দেয় যা দৃশ্যমান আলো হিসেবে আমাদের চোখে ধরা পড়ে। এমিশন নীহারিকাগুলো সাধারণত লাল রঙের হয়ে থাকে, কারণ হাইড্রোজেন গ্যাস আয়নিত হওয়ার পর লাল আলো বিকিরণ করে। ওরিয়ন নেবুলা বা কালপুরুষ নীহারিকা হলো এমিশন নীহারিকার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এর উজ্জ্বলতা এতই বেশি যে এটি পৃথিবী থেকে পরিষ্কার আকাশে খালি চোখেও ঝাপসাভাবে দেখা সম্ভব। এই নীহারিকাগুলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল এবং উত্তপ্ত অঞ্চলগুলোর একটি।

রিফ্লেকশন নীহারিকা

রিফ্লেকশন নীহারিকা বা প্রতিফলন নীহারিকা এমিশন নীহারিকার চেয়ে ভিন্ন। এরা নিজেরা কোনো আলো তৈরি করে না। পরিবর্তে, এরা আশেপাশের নক্ষত্রের আলোকে প্রতিফলিত করে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এটি অনেকটা কুয়াশার মধ্যে টর্চ মারলে যেমন কুয়াশা উজ্জ্বল দেখায়, ঠিক তেমন। এই নীহারিকাগুলোতে থাকা ধূলিকণাগুলো নক্ষত্রের আলোকে বিচ্ছুরিত (Scatter) করে। যেহেতু নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম এবং এটি বেশি বিচ্ছুরিত হয়, তাই রিফ্লেকশন নীহারিকাগুলো সাধারণত নীল রঙের দেখায়। আমাদের আকাশের নীল রঙের পেছনেও একই বৈজ্ঞানিক কারণ কাজ করে। 'প্লিডেস' বা কৃত্তিকা নক্ষত্রপুঞ্জের আশেপাশে আমরা যে নীলচে আভা দেখি, তা মূলত রিফ্লেকশন নীহারিকা। এই ধরণের নীহারিকা আমাদের জানায় যে মহাকাশে শুধু গ্যাস নয়, প্রচুর পরিমাণে কঠিন ধূলিকণাও বিদ্যমান যা নক্ষত্রের আলো পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে।

ডার্ক নীহারিকা 

ডার্ক নীহারিকা বা অন্ধকার নীহারিকা হলো মহাকাশের এমন কিছু অঞ্চল যেখানে গ্যাস ও ধূলিকণার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে তারা তাদের পেছনের নক্ষত্রের আলোকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়। এদের কোনো নিজস্ব আলো নেই এবং আশেপাশে এমন কোনো নক্ষত্রও নেই যা এদের আলোকিত করতে পারে। ফলে টেলিস্কোপে এদেরকে মহাকাশের গায়ে কালো গর্ত বা ছায়ার মতো দেখায়। তবে এই 'অন্ধকার' অঞ্চলগুলো আসলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো হলো মহাবিশ্বের শীতলতম স্থান। এখানেই গ্যাস সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত হওয়ার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে নক্ষত্র তৈরির বীজ রোপিত হয়। বিখ্যাত 'হর্সহেড নেবুলা' বা ঘোড়ার মাথা নীহারিকা হলো একটি ডার্ক নেবুলা যা একটি উজ্জ্বল এমিশন নীহারিকার সামনে অবস্থিত হওয়ায় এর আকৃতি পরিষ্কার বোঝা যায়। এগুলো মহাবিশ্বের এক রহস্যময় দিক যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে যা দেখা যায় না, তার গুরুত্বও অপরিসীম।


eagle nebula
ঈগল নীহারিকা

প্ল্যানেটারি নীহারিকা

নামে 'প্ল্যানেটারি' বা গ্রহীয় হলেও এর সাথে গ্রহের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। অষ্টাদশ শতাব্দীতে উইলিয়াম হার্শেল যখন প্রথম এগুলো দেখেন, তখন তার টেলিস্কোপে এগুলোকে অনেকটা ইউরেনাস গ্রহের মতো গোল দেখাত বলে তিনি এই নামকরণ করেন। আসলে প্ল্যানেটারি নীহারিকা হলো সূর্যের মতো মাঝারি ভরের নক্ষত্রের মৃত্যুর এক রঙিন বহিঃপ্রকাশ। যখন একটি নক্ষত্র তার জীবনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, তখন সেটি ফুলে ফেঁপে 'রেড জায়ান্ট' বা লোহিত দানবে পরিণত হয় এবং তার বাইরের স্তরের গ্যাসগুলো মহাকাশে ছুড়ে দেয়। নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ বা কেন্দ্রটি একটি 'হোয়াইট ডোয়ার্ফ' বা শ্বেত বামন নক্ষত্রে পরিণত হয়। এই মৃতপ্রায় কেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণ বাইরের গ্যাসীয় স্তরকে আলোকিত করে তোলে। রিং নেবুলা বা হেলিক্স নেবুলা হলো এর চমৎকার উদাহরণ। আমাদের সূর্যও আজ থেকে প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর এমন একটি সুন্দর প্ল্যানেটারি নীহারিকা তৈরি করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে।

সুপারনোভা অবশিষ্টাংশ

বিশাল ভরের নক্ষত্রগুলো যখন তাদের জ্বালানি শেষ করে ফেলে, তখন তারা এক প্রলয়ঙ্কারি বিস্ফোরণের মাধ্যমে ধ্বংস হয়ে যায়, যাকে বলা হয় 'সুপারনোভা'। এই বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী হয় যে এটি একটি পুরো গ্যালাক্সির চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হতে পারে। বিস্ফোরণের ফলে নক্ষত্রের সমস্ত উপাদান প্রচণ্ড গতিতে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং যে নীহারিকা তৈরি করে তাকে সুপারনোভা অবশিষ্টাংশ বলা হয়। ক্র্যাব নেবুলা (Crab Nebula) বা কর্কট নীহারিকা হলো ১০৫৪ সালে ঘটা একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের ফল। এই নীহারিকাগুলো মহাবিশ্বের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিস্ফোরণের প্রচণ্ড চাপে সেখানে লোহা, সোনা এবং ইউরেনিয়ামের মতো ভারী মৌল তৈরি হয়। এই মৌলগুলোই পরবর্তীতে নতুন গ্রহ এবং জীবন গঠনের উপাদান হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, আমাদের শরীরে থাকা ক্যালসিয়াম বা আয়রন কোনো এক সময় কোনো সুপারনোভা অবশিষ্টাংশ থেকেই এসেছে।

আরো পড়ুনঃ ব্ল্যাক হোল কি? ব্ল্যাক হোল কাকে বলে

নীহারিকার রঙ ও তাদের বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য

নীহারিকার রঙিন ছবিগুলো কেবল শিল্পীর কল্পনা নয়, এগুলোর পেছনে রয়েছে গভীর পদার্থবিজ্ঞান। বিভিন্ন গ্যাস বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো বিকিরণ করে। হাইড্রোজেন গ্যাস প্রধানত লাল আলো দেয়, যা অধিকাংশ নীহারিকায় দেখা যায়। অক্সিজেন গ্যাস যখন উত্তেজিত হয়, তখন তা উজ্জ্বল নীল-সবুজ রঙ তৈরি করে। সালফার দেয় গাঢ় লাল বা কমলা আভা। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই রঙ বিশ্লেষণ করে বুঝতে পারেন একটি নীহারিকায় কোন উপাদানের আধিক্য রয়েছে এবং সেখানকার তাপমাত্রা কত। টেলিস্কোপে তোলা ছবিগুলোতে প্রায়ই কৃত্রিম রঙ যোগ করা হয় যাতে বিভিন্ন গ্যাসের অবস্থান আলাদাভাবে বোঝা যায় (যাকে ফলস কালার ইমেজিং বলা হয়)। এই রঙগুলো আমাদের মহাবিশ্বের রাসায়নিক বিবর্তনের মানচিত্র বুঝতে সাহায্য করে।

নীহারিকা বনাম গ্যালাক্সি

অনেকেই নীহারিকা এবং গ্যালাক্সিকে গুলিয়ে ফেলেন, বিশেষ করে প্রাচীনকালে যখন টেলিস্কোপ উন্নত ছিল না, তখন গ্যালাক্সিগুলোকেও নীহারিকা বলা হতো (যেমন এন্ড্রোমিডা নীহারিকা)। কিন্তু বর্তমানে এদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট। নীহারিকা হলো একটি গ্যালাক্সির ভেতরের একটি ক্ষুদ্র অংশ, যা মূলত গ্যাস ও ধূলিকণা দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে, একটি গ্যালাক্সি হলো কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্রহ এবং হাজার হাজার নীহারিকার এক বিশাল সমষ্টি। সহজ কথায়, একটি বন যদি হয় গ্যালাক্সি, তবে নীহারিকা হলো সেই বনের একটি নার্সারি বা চারাগাছ তৈরির বাগান। নীহারিকা কয়েক আলোকবর্ষ বড় হয়, আর একটি গ্যালাক্সি কয়েক লক্ষ আলোকবর্ষ বড় হতে পারে।


carb nebula
কাঁকড়া নীহারিকা

নীহারিকা হলো মহাবিশ্বের বিবর্তনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি একদিকে যেমন নক্ষত্রের জন্ম দিয়ে মহাবিশ্বকে আলোকিত করে, অন্যদিকে নক্ষত্রের মৃত্যুর পর তার উপাদানগুলো পুনরায় বিলিয়ে দিয়ে নতুন সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করে। মহাবিশ্বের এই চক্রাকার প্রক্রিয়ায় নীহারিকা এক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো উন্নত প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা এখন নীহারিকার গভীরে উঁকি দিয়ে নক্ষত্র তৈরির আদি মুহূর্তগুলো দেখতে পাচ্ছি। নীহারিকা আমাদের শেখায় যে মৃত্যু মানেই শেষ নয়, বরং এটি নতুন কোনো নক্ষত্র বা সৌরজগত তৈরির এক রঙিন শুরু। মহাকাশের এই বিশাল গ্যাসীয় মেঘগুলো তাই চিরকালই মানুষের কৌতূহল এবং বিস্ময়ের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।


তথ্য সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

আরো পড়ুনঃ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Ok, Go it!) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Check Now
Ok, Go it!