নদী
জামিল ইসলামের গল্প
পর্বঃ০১
![]() |
| ziodop.com |
ভোরের আলো ফুটেছে।
সূর্য তার কিরণ ঢালতে শুরু করেছে। সকালের হালকা - উষ্ণ রোদের আমেজ গায়ে মাখতে তিস্তার পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে একজন।
তিস্তার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা সে ব্যক্তির নাম প্রতুল।
প্রতুল চোখ মেলে তাকিয়ে আছে দিগন্ত বিস্তৃত নদীর দিকে। সোনালী রোদের আলোয় নদীর পানি এখন আরো স্বচ্ছ হয়ে গেছে। নদী তীরের বালিগুলোও যেনো চিকচিক করছে।
হিমালয় থেকে নেমে আসা এই নদী যেন তার শৈশব, কৈশোর আর যৌবনের সমস্ত স্মৃতিকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিস্তা প্রতুলের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার পুরো জীবনটাই এই নদীর সঙ্গে জড়িত। একদিকে তার বাবার কৃষিজমি। অন্যদিকে মাছ ধরার নৌকা। সবশেষে তাদের ছোট্ট কুঁড়েঘরটা।
তিস্তা নদীটা যেনো পুরো গ্রাম এবং গ্রামের মানুষের শিরায় শিরায় জড়িয়ে আছে। গ্রামের মানুষজন এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। বর্ষার সময় নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে। তখন সে ধারণ করে তার ভয়ংকর রুপ। আর শীতকালে যখন শুকিয়ে যায়, তখন একে মনে হয় যেনো আশি কিংবা নব্বই বছরের কোনো বৃদ্ধের ক্ষীণ দেহ।
তিস্তা যেমনই হোক, প্রতুলের কাছে তবুও সে যেনো তার নিজের মায়ের মতোই আপন। তিস্তা তার খুবই কাছের বন্ধু। আর এই নদীর সঙ্গেই তো প্রতুলের সুখ-দুঃখের হাজারো স্মৃতি জড়িয়ে আছে।
প্রতুলের দিনগুলো কাটে খুব সাধারণভাবে।
সকালে রোদ ওঠার আগেই যখন গ্রামের মানুষরা কাজের জন্য বেরিয়ে পড়ে। তখন প্রতুলও বের হয়। নৌকা নিয়ে নদীতে চলে যায় মাছ ধরতে। তার মায়ের দরদ-মাখা মুখের ক্লান্তি আর ছোট ভাই-বোনদের চাহিদা তাকে প্রতিদিন নতুন উদ্যমে কাজ করতে বাধ্য করে।
প্রতুলের বাবা নেই।
ছোট বেলার এক ভয়াবহ বন্যার কথা মনে পড়ে যায় প্রতুলের। প্রতুলের তখন দশ বছর বয়স। ভাদ্রের শেষের দিকে তখনকার এক ভয়ংকর বন্যায় তার বাবাকে হারায়। আচমকা বন্যার পানির তীব্র স্রোত
ভাসিয়ে নিয়ে যায় তার বাবাকে। কয়েকদিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভোগার কারণে শরীরটা প্রায় ভেঙে পড়েছিলো প্রতুলের বাবার। প্রকৃতির নির্মম আচরণের বিপরীতে সংগ্রাম করে বাঁচার সবরকম চেষ্টাই করেছিলো।কিন্তু শেষ পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে নিজেকে বাঁচাতে পারেনি অত্যন্ত দূর্বল শরীর ও ক্ষীণ স্বাস্থ্যের অধিকারী তার বাবা। পরে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছিলো, কিন্তু কোথায় হারিয়ে গেছে তার আর কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যায় নি। বাবাকে হারানোর পর থেকে প্রতুলই পরিবারের একমাত্র ভরসা।
প্রতুল যখন তিন বছরের, তখনও এক ভয়াবহ বন্যা হয়েছিলো। সেই বন্যাতে তার দাদা ও বড় কাকা মারা যায়। সেবার বন্যার ভয়াবহতা এতোটাই তীব্র ছিলো যে, প্রতুলদের গ্রামসহ আশেপাশের দশগ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয়পর্ব
আরোও পড়ুনঃ

