নদী
জামিল ইসলাম
পর্বঃ০২
![]() |
| ziodop.com |
বাবার হারিয়ে যাওয়ার স্মৃতি মনে পড়তেই প্রতুলের চোখ দুটো ছোটো হয়ে আসে। পানিতে ছলছল করে উঠে। কোটরে ঢুকে যায় যেনো। কান্না ধরে রাখতে পারে না। দিগন্ত বিস্তৃত নদীর দিকে তাকিয়ে ভাবে, "যদি বাবাকে ফিরে পেতাম, কতই না সুখের হতো দিনগুলো! আবার সবাই মিলে সুখে থাকতে পারতাম।"
এখন বিকাল।
আজকের বিকালটা একটু অন্যরকম। প্রতুল বেশিরভাগ সময় সকালেই নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়। আবার মাঝে মাঝে বিকালেও বের হয়। আজ সে বিকালে নৌকা নিয়ে বের হয়েছে।
নদী শান্ত হয়ে আছে।
তিস্তার এই শান্ত শীতলতা যেনো আরও গাঢ় হয়ে আছে। নদীর দুই পাড় অসংখ্য গাছ-গাছালিতে পরিপূর্ণ ছিলো। বন্যা ও ঝড়ের তান্ডবে অনেক গাছ নদী গর্ভে হারিয়ে গেলেও, এখনো অনেক গাছ দুই তীরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। পাখিরা সেই গাছগুলোতে বসে মিষ্টি সুরে গান গাইছে। পাখির কলকাকলি যেনো চারপাশকে মুখরিত করে রেখেছে। গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ছে নদীর পানিতে। ঝড়া পাতাগুলো নদীর পানির সঙ্গে মিশে এক গভীর মিতালি তৈরি করছে।
প্রতুলের মনে হলো, নদী যেনো আজ তাকে কিছু বলতে চাইছে। হয়তো কোনো পুরনো কথা কিংবা কোনো রুপকার গল্প। অথবা কোনো না বলা গল্প।
প্রতুল নৌকা নিয়ে নদীর মাঝখানে চলে গেলো। নদীর মাঝখানে গিয়ে প্রতুলের মনে হয়, অন্যদিনের চেয়ে ঢেউ যেনো আজ একটু বেশিই শান্ত। খুব কোমল মনে হয় তার কাছে। যেনো কোনো কোলাহল নেই। আর সেই সাথে তার এটিও মনে হলো, বাতাসে নদীর দুই পাশের গাছগুলোর পাতা যেভাবে নড়ছে, তা দেখে মনে হচ্ছে বাতাস খুব ভালোই বইছে। কিন্তু নদীর মাঝে বাতাসটা যেনো ততোটা বেশি মনে হচ্ছে না৷ তার গায়ে বাতাস তেমন একটা লাগছে না। মৃদু বাতাসের তালে তালে তার নৌকা চলতে থাকে।
প্রতুল নৌকা নিয়ে যখন নদীতে মাছ ধরতে যায়, তখন তার খুব ভালো লাগে। আর তার জালে যখন মাছ ধরা পড়ে, তখন তার মনে খুশির বন্যা বয়ে যায়। চোখে মুখে আনন্দ ঝিলিক দিয়ে উঠে। তার জালে আটকা পড়ে তাজা মাছগুলোর চোখের বিহ্বলতা, আতঙ্ক - হতাশা যেনো প্রতুলের আনন্দ বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। নদীর বুকে ভাসতে প্রতুলের বড় ভালো লাগে। যতোক্ষণ নদীর বুকে থাকে, তার কাছে মনে হয় সে যেনো তার মায়ের বুকেই আছে।
অন্যদিন মাছ ধরতে এসে......
তৃতীয়পর্ব
আরো পড়ুনঃ

